দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগে সার্চ কমিটি গঠন

Originally posted in The Business Standard on 22 June 2026

 

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের জন্য পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করেছে সরকার। সোমবার (২২ জুন) এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হককে কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি রাশিক আল জলিল, বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি), বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

দুদক আইন, ২০০৪-এর ধারা ৭ অনুযায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সার্চ কমিটি দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তিদের নামের তালিকা প্রস্তুত করে সরকারের কাছে সুপারিশ করবে। কমিটির কার্যসম্পাদনে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। দুদকের বর্তমান কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে নতুন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এ সার্চ কমিটি গঠন করা হলো।

এর আগে, গত ১৫ জুন জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, দুদক পুনর্গঠনের লক্ষ্যে খুব শিগগিরই সার্চ কমিটি গঠন করা হবে।

তিনি বলেন, নতুন কমিশনের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর দুর্নীতি দমন কমিশন গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, দুর্নীতিবিরোধী লড়াইকে কার্যকর করতে কমিশনের নেতৃত্বে দক্ষ, সৎ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে আসা প্রয়োজন। সে লক্ষ্যেই আইন অনুযায়ী সার্চ কমিটি গঠন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

ওইদিন দুদক পুনর্গঠন নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনার সময় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা কমিশনের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

তিনি অতীতের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনকে প্রকৃত অর্থে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হলে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে।

দুদকের নেতৃত্ব নির্বাচনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি।

রুমিন ফারহানা সংসদে বলেন, দেশে দুর্নীতি নিয়ে জনমনে ব্যাপক উদ্বেগ রয়েছে। ফলে নতুন কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে এমন ব্যক্তিদের বেছে নিতে হবে, যাদের সততা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকবে না।

দুদক আইন, ২০০৪ অনুযায়ী চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের আগে একটি সার্চ কমিটি গঠন করা বাধ্যতামূলক। কমিটি যোগ্য ব্যক্তিদের নাম সুপারিশ করলে সেখান থেকে সরকার নিয়োগ দেয়।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সংস্কারের দাবি জোরালো হয়। সেই প্রেক্ষাপটে দুদকের স্বাধীনতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে কমিশনের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার দাবিও বিভিন্ন মহল থেকে উঠে আসে।

সাম্প্রতিক সময়ে সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদসহ একাধিক আলোচিত দুর্নীতির মামলা এবং সম্পদ অনুসন্ধান কার্যক্রমের কারণে দুদক আবারও জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। ফলে নতুন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উভয় দিক থেকেই বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন কমিশনের গ্রহণযোগ্যতা অনেকাংশে নির্ভর করবে সার্চ কমিটির সুপারিশ এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার ওপর। দুর্নীতি দমনে সরকারের অঙ্গীকার কতটা বাস্তবায়িত হবে, সেটিও এই কমিশনের কার্যক্রমের মাধ্যমে মূল্যায়িত হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Subscribe

Glossary

Last Updated: 14th December 2025

Loading glossary...