বছর
2026
রিফর্ম ডোমেইন
উপ-ডোমেইন
নারীর ক্ষমতায়ন
সংস্কার প্রস্তাবের উৎস
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬
বাস্তবায়নের অগ্রগতির ধাপ
প্রস্তাবিত সংস্কার
Last Update: 02-May-26
এই প্রতিশ্রুতিটি বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারে বিএনপি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, “প্রায় ৪ কোটি প্রান্তিক পরিবারের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ দরিদ্র গ্রামীণ পরিবারের জন্য 'ফ্যামিলি কার্ড' চালু করা হবে। এই কার্ড মূলত পরিবারের নারী প্রধান যথা আমাদের মা ও বোনদের নামে ইস্যু করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি পরিবারকে বিএনপি সরকার দিবে প্রতি মাসে ২,০০০- ২,৫০০ টাকার আর্থিক সহায়তা অথবা খাদ্য সুবিধা যথা: চাল, ডাল, তেল, লবণ সহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য। অর্থ সেবার এই পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করা হবে। এই কার্ড হবে দারিদ্র্য বিমোচন, ক্ষুধামুক্তি ও নারীর স্বাবলম্বী হওয়ার নিশ্চয়তা। বেগম খালেদা জিয়া নারীদের শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছিলেন, এখন বিএনপি তাদের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে চায়।“
প্রাথমিক বাস্তবায়ন শুরু
Last Update: 02-May-26
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে, নবনির্বাচিত বাংলাদেশ সরকার ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য ১৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠনের লক্ষ্যে একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করে এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে প্রধান মন্ত্রণালয় হিসেবে নির্ধারণ করে।
আইনি ও নীতিগত কাঠামো প্রণয়ন
Last Update: 02-May-26
‘ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন নির্দেশিকা, ২০২৬’-এর মাধ্যমে কর্মসূচিটির প্রাথমিক পাইলট কার্যক্রম পরিচালনার কাঠামো নির্ধারণ করা হয়। নির্দেশিকা অনুযায়ী, নির্বাচিত পরিবারের মা বা নারী পরিবারপ্রধানকে মাসে ২,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিধান রাখা হয়। সুবিধাভোগী নির্বাচনের জন্য প্রক্সি মিনস টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়, যেখানে ৮১৪ বা তার কম স্কোর পাওয়া পরিবারগুলো সহায়তা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবে। পাইলট কার্যক্রমটি ২০২৬ সালের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত চার মাস পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয় এবং এর আওতায় প্রতি মাসে ১০ হাজার পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। নির্দেশিকায় সুবিধাভোগী নির্বাচন ও যাচাই, কর্মসূচি পরিচালনা, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন এবং আনুষ্ঠানিক অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থার (জিআরএস) পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে স্থানীয় ও ডিজিটাল মাধ্যমে অভিযোগ জানানোর সুযোগের পাশাপাশি সামাজিক নিরীক্ষার ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
পাইলট পর্যায়ের পর কর্মসূচিটি সারা দেশে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকার আরও বিস্তৃত একটি কাঠামো তৈরির কাজ শুরু করে। ২০২৬–২৭ অর্থবছরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের ১৫ জুন ফ্যামিলি কার্ড বিতরণসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ‘ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন (সংশোধিত) নির্দেশিকা, ২০২৬’ চূড়ান্ত করে এবং ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয়।
পরবর্তীতে ২০ আগস্ট প্রকাশিত ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’-এর মাধ্যমে দেশব্যাপী কর্মসূচিটি বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক কাঠামো নির্ধারণ করা হয়। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো অতিদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থার আওতায় আনা। নীতিমালায় প্রায় ২ কোটি নারী পরিবারপ্রধানকে সরকার থেকে সরাসরি সুবিধাভোগীর হিসাবে অর্থ পাঠানোর (জিটুপি) পদ্ধতিতে মাসিক আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
পাইলট কার্যক্রমের নির্দেশিকার তুলনায় নতুন নীতিমালায় সারা দেশে কর্মসূচি সম্প্রসারণের জন্য সুবিধাভোগী শনাক্ত ও যাচাইয়ে আরও বিস্তৃত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এতে তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ, কাগজবিহীন পদ্ধতিতে পরিবারের তথ্য সংগ্রহ, ভৌগোলিক অবস্থান শনাক্ত ও অবস্থানভিত্তিক তথ্য যুক্ত করার পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারের ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণের বিধান রয়েছে। এ ছাড়া ওয়ান আইডি (OneID), পরিবারভিত্তিক তথ্য, নিয়মিত হালনাগাদযোগ্য সামাজিক নিবন্ধনব্যবস্থা (ডিএসআর), বিভিন্ন তথ্যভান্ডারের তথ্য মিলিয়ে দেখা, তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে যাচাই এবং সুবিধাভোগীদের যোগ্যতা পুনরায় যাচাইয়ের ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, কর্মসূচির আওতা, যোগ্য ব্যক্তিদের বাদ পড়া বা অযোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার হার, অর্থ পরিশোধের সফলতা, অভিযোগ নিষ্পত্তি, একই ব্যক্তির একাধিকবার অন্তর্ভুক্তি শনাক্ত এবং সুবিধাভোগীদের পুনরায় যাচাইয়ের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য বিভিন্ন সূচক নির্ধারণ করা হয়েছে। নীতিমালায় অর্থ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পিত ব্যবস্থার অংশ হিসেবে জিটুপি ও টাকাপে-সহ ডিজিটাল লেনদেনব্যবস্থার সঙ্গে কর্মসূচিটি যুক্ত করার বিধানও রাখা হয়েছে। এসব বিধানের মাধ্যমে ভবিষ্যতে অর্থ সহায়তা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রযুক্তিগত কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, অর্থ প্রদানের সব পদ্ধতি ইতোমধ্যে চালু হয়েছে এবং সুবিধাভোগীরা সেগুলোর মাধ্যমে সহায়তা পাচ্ছেন।
প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক কার্যকরকরণ
Last Update: 18-Oct-26
২০২৬ সালের ১০ মার্চ দেশের ১৪টি উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট কর্মসূচি চালু করা হয়। উপজেলাগুলো হলো—ভৈরব, পাংশা, নবাবগঞ্জ, লামা, লালপুর, ঠাকুরগাঁও সদর, চরফ্যাশন, দিরাই, মিরপুর, বনানী, বগুড়া সদর, খালিশপুর, পতেঙ্গা ও বাঞ্ছারামপুর। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাইলট পর্যায়ে ৩৭,৫৬৭ জন নারী সুবিধাভোগীর হিসাবে ভাতার অর্থ পাঠানো হয়। পরবর্তীতে বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রগতি প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ৭০,৮৬১টি ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।
পাইলট পর্যায়ের পর কর্মসূচিটি আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় তথ্যভান্ডার তৈরির কাজ শুরু হয়। এ উদ্দেশ্যে সমাজসেবা অধিদপ্তর ট্যাবলেটের মাধ্যমে পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহের জন্য তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সারা দেশে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম ২০২৬ সালের ১ আগস্ট থেকে শুরু হওয়ার ঘোষণা করা হয়।
এরপর কর্মসূচিটি দেশব্যাপী সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৬ সালের ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কিশোরগঞ্জ জেলা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ৪ অক্টোবর সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী জানান, কর্মসূচিটির পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়নের জন্য প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে এবং এটি পর্যায়ক্রমে উপজেলা, ইউনিয়ন ও তৃণমূল পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা হবে।
মতামত
-
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত অর্থ মন্ত্রণালয়ের যাচাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, পাইলট পর্যায়ে ৩৭,৮০০টি ফ্যামিলি কার্ডের মধ্যে ৩৫,৮৪৪টি যাচাই করা হয়। এর মধ্যে ৬,৪৮৭ জন সুবিধাভোগী—অর্থাৎ প্রায় ১৮ শতাংশ—কর্মসূচির নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী সহায়তা পাওয়ার অযোগ্য বলে চিহ্নিত হন। তাঁদের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবী, পেনশনভোগী, সঞ্চয়পত্রের মালিক, যানবাহনের মালিক এবং টিসিবি, ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মতো অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি থেকে ইতোমধ্যে সহায়তা পাওয়া ব্যক্তিরাও ছিলেন।
‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’-এ এমন কিছু ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা পাইলট পর্যায়ে চিহ্নিত দুর্বলতাগুলো দূর করতে সহায়ক হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে আরও পদ্ধতিগতভাবে পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ, ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচয় শনাক্ত ও বিভিন্ন তথ্যভান্ডারের তথ্য মিলিয়ে যাচাই, নিয়মিত হালনাগাদযোগ্য সামাজিক নিবন্ধনব্যবস্থা (ডিএসআর), তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে যাচাই, একই ব্যক্তির একাধিক কর্মসূচি থেকে সুবিধা গ্রহণ রোধ, সুবিধাভোগীদের যোগ্যতা পুনরায় যাচাই এবং যোগ্য ব্যক্তিদের বাদ পড়া ও অযোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার হার পর্যবেক্ষণের জন্য সুনির্দিষ্ট সূচক নির্ধারণ। তবে এসব ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে দেশব্যাপী কর্মসূচি বাস্তবায়নের সময় এগুলো কতটা যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে তার ওপর। নতুন ব্যবস্থার আওতায় সুবিধাভোগী নির্বাচনের ভুলের হার সত্যি কমেছে কি না, তা যাচাইয়ের মতো পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
দেশব্যাপী কর্মসূচির বাস্তবায়ন এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি কতটি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, কতজন সুবিধাভোগীর যোগ্যতা যাচাই করা হয়েছে, কতটি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে, কতটি জেলায় কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়েছে এবং প্রকৃতপক্ষে কত টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে—সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট ও নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করা গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে পাইলট পর্যায়ে চিহ্নিত দুর্বলতাগুলো কতটা দূর করা সম্ভব হয়েছে এবং কর্মসূচিটি নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার দিকে কত দ্রুত এগোচ্ছে, তা মূল্যায়ন করা সহজ হবে।
তথ্যাবলী
- আগামী চার বছরে ৪ কোটি পরিবার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাবে: প্রধানমন্ত্রী
- ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন, ২০২৬
- ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পে ভুল সংশোধন করা হবে: অর্থমন্ত্রী
- ফ্যামিলি কার্ড প্রদান সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি
- ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ
- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬