বিরোধীদল আলোচনায় এলে ভিন্নমতের ইস্যুতে ছাড় দেওয়ার সুযোগ রয়েছে: সালাহউদ্দিন

Photo: TBS
Originally posted in The Business Standard on 29 September 2026

 

স্বৈরতান্ত্রিকতা রোধে কোনো ব্যক্তির সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে না থাকার যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, সরকার সেই সিদ্ধান্তের পক্ষে রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন বিষয়ক বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

একইসঙ্গে বিরোধী দল আলোচনার টেবিলে এলে সমঝোতার ভিত্তিতে প্রস্তাবিত সংবিধানে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমতের ইস্যুতে ছাড় দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এ ছাড়াও জাতীয় স্বার্থে কমিটিতে সদস্য পাঠানোর জন্য বিরোধী দলের প্রতি নতুন করে আহবান জানান তিনি।

আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন বিষয়ক বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানান।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, গত রোববার ও আজ (মঙ্গলবার) দুইদিনব্যাপী গণমাধ্যমের সম্পাদক, টিভি চ্যানেল ও অনলাইন পোর্টালের সম্পাদক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে কমিটি।

তিনি জানান, মঙ্গলবার প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠকে, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার গঠন প্রক্রিয়া, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করাসহ নানা পরামর্শ দেন সাংবাদিকরা। কেউ কেউ দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্টের যৌক্তিকতা, প্রধানমন্ত্রীর দুই মেয়াদের ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সেখান থেকে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ও বিস্তর প্রস্তাব পাওয়া গেছে।

এসময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর করার বিষয়ে অনেকে মত দিয়েছেন, এটি অগণতান্ত্রিক এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী। কিন্তু আমাদের দলের পক্ষ থেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাব করেছিলেন, কোনো ব্যক্তি যেন ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে না থাকেন। স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়া ঠেকাতেই এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। আমরা আমাদের সেই অবস্থান থেকে এখনো সরিনি। তবে সংসদে বিরোধী দল বা অন্য কারও পক্ষ থেকে কোনো প্রস্তাব এলে তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।”

সংবিধানের অন্যান্য সংশোধনীর প্রস্তাব সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি, বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ ও স্বাধীনতা এবং সংবিধানের প্রস্তাবনা (প্রিয়াম্বল) ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামো ও রূপরেখা কী হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এনিয়ে আরও উন্মুক্ত আলোচনা ও প্রস্তাব প্রয়োজন, যা পরবর্তীতে পার্লামেন্ট বিবেচনা করবে।

দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানে বলা আছে বাংলাদেশ একক রাষ্ট্র (ইউনিটারি গভর্মেন্ট)। এখানে অঙ্গরাজ্যের কোনো সিস্টেম নেই। তাই দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্টের আদৌ প্রয়োজন আছে কিনা, সে বিষয়ে কেউ কেউ মতামত দিয়েছেন। তবে ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ দ্বিকক্ষ পার্লামেন্টের বিষয়ে ঐকমত্য থাকায়—আমরা সেভাবেই এগোতে চাই। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পার্লামেন্টই নেবে।

সংবিধান সংশোধনে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ও ‘জুলাই সনদে’ তাদের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ প্রসঙ্গে বিশেষ কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমাদের আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত। আমরা আপনাদের (গণমাধ্যম) মাধ্যমে বিরোধী দলকে আহ্বান জানাই, তারা যেন সংবিধান সংশোধন কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করেন এবং আলোচনায় আসেন। জুলাই সনদের কোনো বিষয়ে তাদের ভিন্নমত থাকলে–সমঝোতার ভিত্তিতে তা আলোচনা করা যেতে পারে, তবে তার জন্য তো তাদের আলোচনায় আসতে হবে।”

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, বিচারক, শিক্ষাবিদ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত সামাজিক শক্তি, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার এবং গত ১৭ বছরে গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করবে কমিটি। এ ছাড়া, ড. আলী রীয়াজের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গেও শেষের দিকে বৈঠক করা হবে।

সবার মতামতের ভিত্তিতে একটি রিপোর্ট প্রণয়ন করে তা পার্লামেন্টে উপস্থাপন করা হবে এবং তার ভিত্তিতেই সংসদে বিল পাসের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সংবিধান সংশোধনী আনা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সাবস্ক্রাইব

শব্দকোষ

Last Updated: 14th December 2025

Loading glossary...