বছর
2026
রিফর্ম ডোমেইন
উপ-ডোমেইন
শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন
সংস্কার প্রস্তাবের উৎস
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬
বাস্তবায়নের অগ্রগতির ধাপ
প্রস্তাবিত সংস্কার
Last Update: 10-Sep-26
এই প্রতিশ্রুতিটি বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারে বিএনপি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, “বিগত বছরগুলোতে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে যারা শহীদ ও আহত হয়েছেন এবং জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের ছেলে-মেয়েদের এবং গুরুতর আহত হয়ে অঙ্গহানি ও পঙ্গুত্ব বরণকারী জুলাই শিক্ষার্থী যোদ্ধাদের এবং তাদের শিক্ষার্থী সন্তানদের বিশেষ শিক্ষা প্রণোদনা প্রদান করা হবে।”
প্রাথমিক বাস্তবায়ন শুরু
Last Update: 10-Sep-26
২০২৬ সালের ২৪ মার্চ, শিক্ষামন্ত্রী জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের সন্তান এবং আহত বা স্থায়ীভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে পড়া ছাত্রযোদ্ধাদের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত বিনা মূল্যে শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।
মতামত
-
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে উল্লেখিত নির্দিষ্ট শিক্ষাগত প্রণোদনাটি ২০২৬ সালের “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধা কল্যাণ ও পুনর্বাসন আইন, ২০২৬” এর অধীনে পৃথকভাবে প্রতিষ্ঠা করা হয়নি। যদিও আইনটিতে পুনর্বাসনের বিস্তৃত সংজ্ঞার মধ্যে শিক্ষার সুযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তবে এতে নির্দিষ্ট বৃত্তি, টিউশন ফি মওকুফ, শিক্ষা অনুদান বা অন্য কোনো শিক্ষা-ভিত্তিক সহায়তা কর্মসূচির বিধান রাখা হয়নি। তবে সরকার আহত জুলাই যোদ্ধাদের জন্য সরাসরি আর্থিক ও কল্যাণমূলক সুবিধা চালু করেছে। আইনের আওতায় ক্যাটাগরি-এ-তে গুরুতর আহত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেমন অঙ্গহানি, সম্পূর্ণ অন্ধত্ব, গুরুতর মানসিক অক্ষমতা বা এমন স্থায়ী আঘাতের শিকার ব্যক্তি, যার কারণে তারা জীবিকা নির্বাহে অক্ষম। ক্যাটাগরি-বি-তে গুরুতর আহত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে আংশিক অন্ধত্ব, গুরুতর মস্তিষ্কে আঘাত বা এ ধরনের গুরুতর আঘাতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের রাখা হয়েছে। আর ক্যাটাগরি-সি-তে গুলিবিদ্ধ, শ্রবণ বা দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত এবং হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজন হয়েছিল এমন আহত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যারা পরবর্তীতে স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে ফিরে এসেছেন। ২০২৬ সালের ১৮ জুনের মধ্যে গেজেটভুক্ত ১৪,৩৬৯ জন জুলাই যোদ্ধার মধ্যে ১৩,৩৪৪ জন এই মাসিক ভাতা পাচ্ছিলেন। ক্যাটাগরি-এ, বি ও সি-এর উপকারভোগীরা যথাক্রমে মাসে ২০,০০০ টাকা, ১৫,০০০ টাকা ও ১০,০০০ টাকা করে ভাতা পাচ্ছিলেন। এই সুবিধাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে শিক্ষা সংক্রান্ত খরচসহ আর্থিকভাবে সহায়তা করতে পারে, তবে এগুলো ইশতেহারে প্রতিশ্রুত সুনির্দিষ্ট শিক্ষামূলক প্রণোদনার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নয়।
এই আইন এসব ব্যক্তি ও পরিবারের কল্যাণ এবং পুনর্বাসনের জন্য একটি বিস্তৃত আইনি ভিত্তি তৈরি করেছে, যা মূল প্রতিশ্রুতির চেয়ে বিস্তৃত। তবে, আইনে পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে শিক্ষার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকলেও শহীদদের সন্তান, আহত ব্যক্তি, গুরুতর আহত বা প্রতিবন্ধী জুলাই ছাত্রযোদ্ধা এবং তাদের শিক্ষার্থী সন্তানদের জন্য আলাদা কোনো শিক্ষা-প্রণোদনা কর্মসূচি চালুর ব্যবস্থা করা হয়নি।
বিশেষ শিক্ষা-প্রণোদনা সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য এখনো কোনো পৃথক নির্দেশিকা, বৃত্তি সংক্রান্ত ঘোষণা, টিউশন ফি মওকুফের আদেশ, সুবিধাভোগী শিক্ষার্থীদের তালিকা বা অর্থ বিতরণের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, শিক্ষা-সংক্রান্ত এই নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের অগ্রগতি এখনো সীমিত রয়েছে।
তথ্যাবলী
- ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসের গণঅভ্যুত্থান ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের ইতিহাস, নিদর্শন ও দলিলাদি সংরক্ষণ, গবেষণা ও প্রদর্শনের জন্য জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন
- Milon announces 180-day priority programme for education sector
- জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭
- জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণের লক্ষ্যে প্রণীত আইন
- জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসনসহ গণঅভ্যুত্থানের মর্ম ও আদর্শকে রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত করা এবং ইতিহাস সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন