বছর
2026
রিফর্ম ডোমেইন
উপ-ডোমেইন
নারীর ক্ষমতায়ন
সংস্কার প্রস্তাবের উৎস
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬
বাস্তবায়নের অগ্রগতির ধাপ
প্রস্তাবিত সংস্কার
Last Update: 03-Aug-26
এই প্রতিশ্রুতিটি বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারে বিএনপি বলেছে, “নারীদের চলাফেরার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার শক্তিশালী করা, সাংস্কৃতিক বাধা দূর করা, প্রান্তিক নারীদের ভুক্তি করা, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার পরিসর বৃদ্ধি করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির ক্ষেত্রে নারীর ন্যায্য তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
প্রাথমিক বাস্তবায়ন শুরু
Last Update: 03-Aug-26
২০২৬ সালের ৮ মার্চ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি স্কুল-কলেজে ধাপে ধাপে বৈজ্ঞানিক জীবনাচার ও মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মসূচি চালুর নির্দেশ দেয়। কর্মসূচির আওতায় প্রতি বছর শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অভিভাবকদের নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম আয়োজনের কথা বলা হয়।
২০২৬ সালের ১১ জুন সংসদে উপস্থাপিত ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, জেলা হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে সমন্বিত সেকেন্ডারি স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এই কর্মসূচির আওতায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে মাতৃ, নবজাতক, শিশু ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার প্রাথমিক কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী করা হবে।
আইনি ও নীতিগত কাঠামো প্রণয়ন
Last Update: 03-Aug-26
কিশোর-কিশোরীদের আত্মহত্যা প্রতিরোধে ‘লিভ লাইফ’ কর্মসূচির পাইলট কার্যক্রম ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত যশোর, ঝিনাইদহ, সিলেট ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের নির্বাচিত উপজেলায় চলমান রয়েছে। কর্মসূচিটি ২০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলমান রয়েছে। এর আওতায় জরিপ, সচেতনতামূলক অধিবেশন ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ২০ হাজার শিক্ষার্থী এবং ২৮৮ জন শিক্ষক ও স্থানীয় অংশীজনকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকাশিত কাঠামো অনুযায়ী, পাইলট কর্মসূচিটি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট কারিগরি দিকনির্দেশনা দিচ্ছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অর্থায়ন করছে এবং বাস্তবায়নে সহায়তা করছে “মনের বন্ধু”। কর্মসূচির আওতায় নিয়মিত তদারকি, তথ্যের গোপনীয়তা নিশ্চিত করা, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ফোকাল ব্যক্তি নিয়োগ, চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং ভবিষ্যতের জাতীয় আত্মহত্যা প্রতিরোধ নীতি প্রণয়নে সহায়ক একটি গবেষণাপত্র তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
মতামত
-
সংবাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ‘লিভ লাইফ’ কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপে ২০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জরিপ, সচেতনতা কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণ চলছে। এতে ২০ হাজার শিক্ষার্থী এবং ২৮৮ জন শিক্ষক ও স্থানীয় অংশীজনকে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এই কর্মসূচি সম্পর্কে যেসব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তার বেশিরভাগই সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনভিত্তিক। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আদেশ, বাস্তবায়ন নির্দেশিকা বা অন্যান্য সরকারি নথি প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। তাই কর্মসূচিটি কীভাবে অনুমোদিত হয়েছে, কীভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং এর অগ্রগতি কীভাবে মাপা হবে—এসব বিষয়ে এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। এই পাইলট কর্মসূচিটি বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই শুরু হয়েছিল। বৈদেশিক অর্থায়নে চলা এই উদ্যোগটি এখনও মাত্র ৪টি জেলার নির্দিষ্ট কিছু উপজেলায় সীমাবদ্ধ। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জেন্ডার বাজেটে প্রজনন স্বাস্থ্য খাত বাড়তি গুরুত্ব পেলেও, এর মূল নীতি ও সেবা কাঠামো আগের সরকারের সময়েই তৈরি। এছাড়া, নতুন কোনো দেশব্যাপী কর্মসূচি, আলাদা বাজেট কিংবা সুস্পষ্ট বাস্তবায়ন ব্যবস্থার দেখা মেলেনি। একই সাথে, প্রান্তিক নারী, সামাজিক-সাংস্কৃতিক বাধা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তৈরি হওয়া স্বাস্থ্য বৈষম্য নিয়ে মাঠপর্যায়ের নির্ভরযোগ্য তথ্যেরও বেশ ঘাটতি রয়েছে।
তথ্যাবলী