বছর
2026
রিফর্ম ডোমেইন
উপ-ডোমেইন
কৃষক, কৃষি উন্নয়ন ও নিরাপদ খাদ্য
সংস্কার প্রস্তাবের উৎস
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬
বাস্তবায়নের অগ্রগতির ধাপ
প্রস্তাবিত সংস্কার
Last Update: 02-May-26
এই প্রতিশ্রুতিটি বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারে বিএনপি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, "সার, বীজ, তেল, বিদ্যুৎ, সেচের পানিসহ কৃষি উপকরণের দাম বেড়েই চলছে। কিন্তু খেটে খাওয়া কৃষক ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। অন্যদিকে নিত্য প্রয়োজনীয় সকল জিনিষপত্রের দাম ফ্যাসিস্ট আমল থেকে দ্রুত বেড়েই চলেছে। জনজীবনে কোনো স্বস্তি নাই। জনগণের সরকার হিসাবে শস্য, ফসল, মৎস্য, ও পশুপালন খাতে গৃহীত ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদ সহ মওকুফ করা হবে। উল্লেখ্য যে, বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণের সুদ-আসল মওকুফ করা হয়েছিল, যা কৃষকদের কষ্ট লাঘব করে কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধি করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছিল।"
প্রাথমিক বাস্তবায়ন শুরু
Last Update: 02-May-26
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে, সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সরকার তার প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত (সুদসহ) কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং বাস্তবায়নের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব প্রদান করা হয়।
আইনি ও নীতিগত কাঠামো প্রণয়ন
Last Update: 18-Oct-26
সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের পর সরকার কৃষকদের জন্য ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত (সুদসহ) কৃষিঋণ মওকুফের একটি কর্মসূচি চালু করে, যা শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে নিয়োজিত কৃষকদের জন্য প্রযোজ্য। ২ মার্চ ২০২৬ তারিখে অর্থ বিভাগের এক বৈঠকের পর সম্ভাব্য আওতায় প্রায় ১২ লাখ কৃষক থেকে সংশোধন করে ১৫টি ব্যাংকের আওতায় ১৩,১৭,৪৯৮ জন কৃষকে উন্নীত করা হয়, যার আনুমানিক আর্থিক ব্যয় প্রায় ১,৫৬৮ কোটি টাকা। প্রতিবেদন অনুযায়ী আর্থিক কাঠামোর অধীনে, অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ও স্থানান্তর করবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে, যা পরবর্তীতে অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোর মধ্যে অর্থ বিতরণ করবে। মওকুফের মোট পরিমাণের মধ্যে প্রায় ৯১৭ কোটি টাকা মূলধন এবং ৭৮২ কোটি টাকা সুদ অন্তর্ভুক্ত, যেখানে প্রায় ১৩৮ কোটি টাকা সুদের সাসপেন্স/অনিশ্চিত হিসাবে সংরক্ষিত অংশ সরকারের দায়িত্বের বাইরে রাখা হয়েছে। ব্যাংকগুলোর কাছে অর্থ পরিশোধের আগে, কৃষিঋণ মওকুফ-সংক্রান্ত তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংক দ্বারা নিরীক্ষার আওতায় আনা হবে। ব্যাংকগুলো ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত প্রযোজ্য বকেয়া হিসাব নির্ধারণ করবে, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে নতুন কোনো সুদ আরোপ করা যাবে না, এবং নিরীক্ষিত হিসাবের ভিত্তিতে সরকার ধাপে ধাপে ব্যাংকগুলোকে অর্থ পরিশোধ করবে।
প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক কার্যকরকরণ
Last Update: 18-Oct-26
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুসারে অর্থ বিভাগ থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে অর্থ বরাদ্দ ও স্থানান্তরের মাধ্যমে কর্মসূচিটির বাস্তবায়ন শুরু হয়। পরবর্তীতে এই অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে মওকুফকৃত ঋণের বিপরীতে পরিশোধ করা হয়। ২০২৬ সালের ১৫ জুলাই রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) জানায়, উত্তরাঞ্চলের ২ লাখ ২৯ হাজার ৯৩৩ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের প্রায় ২২৬ কোটি টাকার ঋণের আসল ও সুদ মওকুফ করা হয়েছে এবং অর্থ মন্ত্রণালয় সেই অর্থ ব্যাংকটিকে পরিশোধ করেছে। ২০২৬ সালের ১৯ জুলাই পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় ৫,৮৯২ জন কৃষকের মাঝে ঋণ মওকুফের সনদ বিতরণ করা হয় এবং ঋণের বিপরীতে বন্ধক রাখা কাগজপত্র ফেরত দেওয়া হয়। এ সময় সোনালী ব্যাংক ও রাকাবের বিভিন্ন শাখার মাধ্যমে প্রায় ৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকার ঋণ মওকুফ করা হয়। ২০২৬ সালের ২০ জুলাই বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক জানায়, খুলনা বিভাগের ১০টি জেলার ৫৬,৭৪৮ জন কৃষককে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে এবং তাঁদের প্রায় ৪১ কোটি ৮০ লাখ টাকার ঋণ মওকুফ করা হয়েছে।
২০২৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত দেশের সব উপজেলার ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮২ জন কৃষকের সুদসহ সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, যোগ্য কৃষকদের মওকুফ করা ঋণের বিপরীতে সরকার ব্যাংকগুলোকে ১ হাজার ৩৫২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। এসব তথ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, কর্মসূচিটির বাস্তবায়ন প্রাথমিক অর্থ বরাদ্দ, ঋণ যাচাই এবং ব্যাংকভিত্তিক প্রক্রিয়াকরণ পর্যায় অতিক্রম করে উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে।
মতামত
-
কৃষিঋণ মওকুফ কর্মসূচি বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। সংশোধিত বাজেটে এ কর্মসূচির জন্য প্রায় ১ হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। এর বিপরীতে সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮২ জন কৃষকের যোগ্য কৃষিঋণের দায় নিষ্পত্তির জন্য ব্যাংকগুলোকে ১ হাজার ৩৫২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। যা সংশোধিত বাজেট বরাদ্দের প্রায় ৮৬ শতাংশ।
তবে কর্মসূচিটির বাস্তবায়নসংক্রান্ত কিছু বিষয় এখনো অস্পষ্ট। অংশগ্রহণকারী কোন ব্যাংককে কত টাকা পরিশোধ করা হয়েছে, তার চূড়ান্ত ও সমন্বিত হিসাব এখনো প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। একইভাবে, সারা দেশে কতজন কৃষককে ঋণ মওকুফ বা ঋণ দায়মুক্তির সনদ দেওয়া হয়েছে, কতজনের বন্ধক রাখা কাগজপত্র ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং ঋণসংক্রান্ত কতটি মামলা প্রত্যাহার বা নিষ্পত্তি করা হয়েছে—তারও পূর্ণাঙ্গ তথ্য মেলেনি। এ ছাড়া সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ রাখা ১ হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং ব্যাংকগুলোকে পরিশোধ করা ১ হাজার ৩৫২ কোটি ৭৪ লাখ টাকার মধ্যে প্রায় ২১৫ কোটি ২২ লাখ টাকার পার্থক্যের কারণও এখনো স্পষ্ট নয়।
কর্মসূচিটির আওতায় সুবিধাভোগী কৃষকের সংখ্যাও প্রাথমিক প্রাক্কলিত ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৪৯৮ জন থেকে বেড়ে সেপ্টেম্বরে জাতীয় সংসদে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮২ জনে দাঁড়িয়েছে। তবে সুবিধাভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করার মতো পূর্ণাঙ্গ ও ব্যাংকভিত্তিক সমন্বিত হিসাব প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।
তথ্যাবলী
- ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ সুবিধা পেয়েছেন ১৪ লাখ কৃষক
- 56,748 farmers in Khulna division to get agro loan waiver
- Farmers Loan Waiver After Audit in Bangladesh | GFM Dhaka
- উত্তরাঞ্চলের ২ লাখ ৩০ হাজার কৃষকের ২২৬ কোটি টাকা ঋণ মওকুফ
- ক্ষুদ্র কৃষকের ঋণ মওকুফে ১,৫৬৭.৯৬ কোটি টাকা বরাদ্দ
- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬