বছর
2025
রিফর্ম ডোমেইন
উপ-ডোমেইন
নারীর ক্ষমতায়ন
সংস্কার প্রস্তাবের উৎস
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬
বাস্তবায়নের অগ্রগতির ধাপ
প্রস্তাবিত সংস্কার
Last Update: 30-Jul-26
এই প্রতিশ্রুতিটি বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারে বিএনপি উল্লেখ করেছে যে, “নারীর প্রতি লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতা ও বৈষম্য নিরসন করা, নারীর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ও নেতৃত্ব বৃদ্ধি করা হবে। ডিজিটাল/অনলাইন সহিংসতা, বিদ্বেষ ও বুলিং বন্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে এবং কার্যকর আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে নারীদের ডিজিটাল হয়রানি বন্ধ করা হবে।”
প্রাথমিক বাস্তবায়ন শুরু
Last Update: 30-Jul-26
২০২৬ সালের ৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার নারীর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং নারীদের বিরুদ্ধে সাইবার বুলিং ও অনলাইন হয়রানি বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ২৪ এপ্রিল সাইবার বুলিং মোকাবিলা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি বিশেষায়িত সেল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ২৪ ঘণ্টার হটলাইন, অনলাইনে অভিযোগ জানানোর পোর্টাল এবং সাইবার বুলিং, হুমকি, পরিচয় জালিয়াতি ও ব্যক্তিগত তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত সাড়া প্রদানকারী দল রাখার কথা বলা হয়েছে।
আইনি ও নীতিগত কাঠামো প্রণয়ন
Last Update: 30-Jul-26
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-কে প্রকাশিত আইন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। আইনটি প্রকাশের তারিখ ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল। এটি সাইবার নিরাপত্তা ও সাইবার-সম্পর্কিত অপরাধ মোকাবিলায় একটি সাধারণ আইনি কাঠামো প্রদান করে। একই সঙ্গে এতে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি, জাতীয় সাইবার জরুরি সাড়া প্রদানকারী দল, জাতীয় নিরাপত্তা পরিচালনা কেন্দ্র, জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কাউন্সিল এবং ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরির মতো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার স্বীকৃতি বা প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে।
প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক কার্যকরকরণ
Last Update: 30-Jul-26
সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ বর্তমানে প্রণীত ও কার্যকর আইন। আইনটি সাইবার অপরাধ মোকাবিলা, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম, ডিজিটাল ফরেনসিক সহায়তা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের জন্য কার্যকর আইনি কাঠামো দিয়েছে। তাই এটি এখন আর শুধু নীতিগত ঘোষণা নয়; আইনটি বাস্তবে প্রয়োগের জন্য কার্যকর রয়েছে।
তবে প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক কার্যকরকরণ এখনো আংশিক পর্যায়ে রয়েছে। আইনটি বিস্তৃত পরিসরের সাইবার অপরাধ নিয়ে প্রণীত; এটি শুধু নারীর অনলাইন হয়রানি মোকাবিলার জন্য নির্দিষ্ট নয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে প্রস্তাবিত সাইবার বুলিং প্রতিরোধ সেলও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়নি। নারীর অনলাইন হয়রানির জন্য পৃথক অভিযোগ পোর্টাল, অভিযোগ নিষ্পত্তির কার্যপদ্ধতি, হটলাইন চালু, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, অভিযোগ ও মামলা নিষ্পত্তির তথ্য, কিংবা পুলিশ, বিটিআরসি, আইসিটি বিভাগ ও নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সুনির্দিষ্ট সমন্বয় নিশ্চিতকারী কোনো প্রশাসনিক আদেশের প্রমাণও পাওয়া যায়নি।
তবে বাস্তবায়ন এখনো আংশিক। আইনটি নারীর অনলাইন হয়রানির জন্য আলাদা করে তৈরি নয়; এটি সব ধরনের সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে প্রস্তাবিত সাইবার বুলিং প্রতিরোধ সেলও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়নি। একইভাবে, নারীদের জন্য আলাদা অভিযোগ পোর্টাল, হটলাইন, অভিযোগ নিষ্পত্তির নির্দিষ্ট পদ্ধতি, সচেতনতামূলক কার্যক্রম বা অভিযোগ ও মামলা পরিচালনার তথ্যও পাওয়া যায়নি। এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে পুলিশ, বিটিআরসি, আইসিটি বিভাগ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সুনির্দিষ্ট সমন্বয় কাঠামোর প্রমাণও এখনো নেই।
মতামত
-
সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ সালের ২১ মে গেজেটে প্রকাশিত হয়। এটি ২০২৩ সালের সাইবার সুরক্ষা আইনের জায়গায় আসে এবং আগের ডিজিটাল আইনগুলোর কিছু বিতর্কিত ধারা বাদ বা পরিবর্তনের চেষ্টা করে। খসড়া পর্যায়ের সংবাদ অনুযায়ী, মানহানি, সাইবার বুলিং ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মতো বিষয়কে ফৌজদারি অপরাধের তালিকা থেকে সরানো হয়েছে। পাশাপাশি আগের আইনের নয়টি বিতর্কিত ধারা বাদ দেওয়া বা সংশোধন করা হয়।
২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল সংসদ অধ্যাদেশটি বহাল রাখার আইন পাস করে। পরদিন, ১০ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির সম্মতি পাওয়ার পর সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ গেজেটে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে জাতীয় সংসদে সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) বিল, ২০২৬ পাস হয়। এরপর ২০২৬ সালের ৬ জুলাই সংশোধনী আইনের খসড়া পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত করার জন্য ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়।
এই আইনে আরও সংশোধনের কাজ চলমান থাকলেও, অনলাইন সহিংসতা, বিদ্বেষ ও বুলিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার ক্ষেত্রে এটি আগের তুলনায় শক্তিশালী আইনি ভিত্তি তৈরি করেছে।
তথ্যাবলী