বছর
2021
রিফর্ম ডোমেইন
উপ-ডোমেইন
নারীর ক্ষমতায়ন
সংস্কার প্রস্তাবের উৎস
Election Manifesto of Bangladesh Nationalist Party - BNP
বাস্তবায়নের অগ্রগতির ধাপ
প্রস্তাবিত সংস্কার
Last Update: 03-Aug-26
এই প্রতিশ্রুতিটি বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারে বিএনপি বলেছে, “তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত নারীর নেতৃত্ব বিকাশ নিশ্চিত করা হবে এবং রাজনীতি, প্রশাসন, রাষ্ট্রীয় নীতি প্রণয়নে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা হবে।”
প্রাথমিক বাস্তবায়ন শুরু
Last Update: 15-Oct-26
২০২৬ সালের ৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সরকার রাজনীতিসহ সব পর্যায়ে নারীদের সক্রিয় ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবং জাতীয় পর্যায়ে নারীদের অংশগ্রহণ আরও জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মতামত
-
রাজনীতি, প্রশাসন কিংবা জাতীয় নীতিনির্ধারণে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার এখনো কোনো পরিমাপযোগ্য লক্ষ্যমাত্রা, ভিত্তি-তথ্য (বেসলাইন ডাটা), বাস্তবায়নের সময়সূচি, দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার কর্মপরিধি বা অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের সূচক প্রকাশ করেনি।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও নারীদের প্রতিনিধিত্ব ছিল অত্যন্ত সীমিত। বিএনপির প্রাথমিক প্রার্থী তালিকায় মাত্র ১০ জন নারী ছিলেন। অন্যদিকে, সারা দেশে মোট ৮৫ জন নারী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বিজয়ী হন মাত্র ৭ জন; যাঁদের মধ্যে ৬ জন বিএনপির এবং ১ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। বিরোধী দলের কোনো নারী প্রার্থী সরাসরি নির্বাচিত আসনে জয়লাভ করতে পারেননি।
০২৬ সালের ২৮ জুন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী জাতীয় নীতিনির্ধারণ থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের বাস্তবায়ন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
২০২৬ সালের ২৩ জুলাই প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ২১টিতে নারী জেলা প্রশাসক (ডিসি) দায়িত্ব পালন করছিলেন। একইভাবে, ৪৯৯টি উপজেলায় ১৯১ জন নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং ৪৭৮টি পদের মধ্যে ১১৬টিতে নারী সহকারী কমিশনার (ভূমি) দায়িত্বে ছিলেন। সব মিলিয়ে মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ১,০৮৫টি পদের মধ্যে ৩৩২টিতে (৩০.৬ শতাংশ) নারী কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে বিভাগীয় কমিশনার পদে কোনো নারী ছিলেন না। এ ছাড়া সচিব ও সমমর্যাদার ৮৮টি পদের মধ্যে মাত্র ১৫টিতে নারী কর্মকর্তারা কর্মরত ছিলেন।
এসব তথ্য থেকে স্পষ্ট হয় যে, বিভিন্ন পর্যায়ে নারীদের সংখ্যাগত উপস্থিতি থাকলেও অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে এখনো কোনো সমন্বিত ও যাচাইযোগ্য সংস্কারকাঠামো গড়ে ওঠেনি। সংসদ ও প্রশাসনে নারীদের উপস্থিতি থাকলেও তাঁদের প্রতিনিধিত্ব মূলত সংরক্ষিত আসন এবং মাঠ প্রশাসনের মধ্যম পর্যায়ের পদগুলোতেই বেশি কেন্দ্রীভূত। অন্যদিকে, সরাসরি নির্বাচিত সংসদীয় আসন ও নীতি-নির্ধারণী শীর্ষ পদগুলোতে এখনো পুরুষদের প্রাধান্যই বিদ্যমান।
২০২৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬’-এ চেয়ারম্যান ও চারজন কমিশনারসহ পাঁচ সদস্যের মধ্যে অন্তত একজন নারী থাকার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। যদিও এই বিধানটি সরাসরি রাজনীতি ও নীতি-নির্ধারণে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রণীত নয়, তবুও এটি জাতীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থায় নারীদের অংশগ্রহণের অতিরিক্ত সুযোগ তৈরি করেছে। তবে সরকার নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা ও সূচক নির্ধারণ কিংবা আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন শুরু না করা পর্যন্ত এই প্রতিশ্রুতি পূরণের সার্বিক অগ্রগতি মূল্যায়ন করা কঠিন হবে।
তথ্যাবলী