ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি বাস্তবায়ন

বছর
2024
রিফর্ম ডোমেইন
ম্যানিফেস্টো ওয়াচ ম্যানিফেস্টো ওয়াচ
উপ-ডোমেইন
নারীর ক্ষমতায়ন
সংস্কার প্রস্তাবের উৎস
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬
প্রস্তাবিত সংস্কার
প্রস্তাবিত সংস্কার
প্রাথমিক বাস্তবায়ন শুরু
প্রাথমিক বাস্তবায়ন শুরু
আইনি ও নীতিগত কাঠামো প্রণয়ন
আইনি ও নীতিগত কাঠামো প্রণয়ন
প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক কার্যকরকরণ
প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক কার্যকরকরণ
বাস্তবায়িত
বাস্তবায়িত
বাস্তবায়নের অগ্রগতির ধাপ
প্রস্তাবিত সংস্কার
প্রস্তাবিত সংস্কার
Last Update: 30-Jul-26
এই প্রতিশ্রুতিটি বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারে বিএনপি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, “নারীর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। নারী নির্যাতন, যৌতুক প্রথা, এসিড নিক্ষেপ, যৌন হয়রানি, ধর্ষণ, নারী ও শিশু পাচাররোধে কঠোর কার্যকর আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ধর্ষক ও নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।”
প্রাথমিক বাস্তবায়ন শুরু
প্রাথমিক বাস্তবায়ন শুরু
Last Update: 30-Jul-26
২০২৬ সালের ২৯ মার্চ নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় নারীর প্রতি সহিংসতা-সংক্রান্ত সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শুরু করে। বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দেশব্যাপী সচেতনতামূলক কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিতে মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ৩ জুন সরকার নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে দেশব্যাপী প্রচারাভিযান চালুর পরিকল্পনা ঘোষণা করে।
আইনি ও নীতিগত কাঠামো প্রণয়ন
আইনি ও নীতিগত কাঠামো প্রণয়ন
Last Update: 30-Jul-26
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশোধনীটি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অধ্যাদেশ হিসেবে প্রণীত হয়েছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পর বিএনপি সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া এই অধ্যাদেশটি সংসদে উপস্থাপন করে। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার জন্য সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ২ এপ্রিল কমিটি অধ্যাদেশগুলোর ওপর প্রতিবেদন জমা দেয়। ১০ এপ্রিল সরকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল, ২০২৬ সংসদে উত্থাপন করে এবং ১২ এপ্রিল বিলটি পাস হয়। সংশোধনীতে তদন্ত ও বিচার শেষ করার সময়সীমা, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা, ডিজিটাল প্রমাণের ব্যবহার, প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত এবং অপরাধীর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক কার্যকরকরণ
প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক কার্যকরকরণ
Last Update: 30-Jul-26
২০২৬ গত ১২ এপ্রিল থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন কার্যকর রয়েছে। ২০২৬ সালের ৩০ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতার মামলায় পুলিশ দ্রুত আসামি গ্রেপ্তার, দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিল এবং বিচারিক কার্যক্রমে সহায়তা করছে। এসব কার্যক্রম থেকে বোঝা যায়, বর্তমান সরকারের সময়ে ধর্ষণের অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত, অভিযোগপত্র দাখিল ও বিচার পরিচালনার প্রক্রিয়াগুলো কার্যকর রয়েছে। তবে এর মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হয় না যে এসব ব্যবস্থাগুলো এই প্রতিশ্রুতির আওতায় নতুনভাবে গড়ে তোলা হয়েছে বা সারা দেশে সমানভাবে কার্যকর হয়েছে।
মতামত
    ২০২৬ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইনটি এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান হলেও এর অগ্রগতি এখনো আংশিক। আইনটি ধর্ষণ ও শিশু ধর্ষণের ক্ষেত্রে কঠোর তদন্ত ও বিচার-সময়সীমা, প্রমাণ গ্রহণের বিস্তৃত সুযোগ, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা এবং শিশু ধর্ষণ ট্রাইব্যুনালের ব্যবস্থা বহাল রেখে অন্তর্বর্তী সরকারের ২০২৫ সালের অধ্যাদেশকে স্থায়ী সংসদীয় ভিত্তি দিয়েছে। বিএনপি সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনেনি। তবে কিছু ক্ষেত্রে ধর্ষণ ও গুরুতর আঘাতের জন্য নির্ধারিত অতিরিক্ত অর্থদণ্ড কমানো হয়েছে, যা ‘দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি’ নিশ্চিত করার অঙ্গীকারের একটি অংশকে দুর্বল করেছে। যৌতুকজনিত সহিংসতা ও অ্যাসিড হামলার ক্ষেত্রে ফৌজদারি শাস্তির বাইরে নতুন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, নজরদারি, লাইসেন্সিং বা ভুক্তভোগী সহায়তা কাঠামো এখনো গড়ে তোলা হয়নি। এ আইনে কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানির অভিযোগ গ্রহণ ও প্রতিকার নিশ্চিত করতে কোনো সমন্বিত কাঠামোও রাখা হয়নি এবং নারী ও শিশু পাচারের বিষয়টি প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে ২০২৬ সালের ২৯ জুন নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী সংসদে জানান, কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ প্রণয়নের উদ্যোগ চলমান রয়েছে।
    সামগ্রিকভাবে, ২০২৬ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কিছু দৃশ্যমান অগ্রগতি এনেছে, তবে তা সব ক্ষেত্রে সমান নয়। অগ্রগতি মূলত ধর্ষণের অভিযোগ, তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় সীমিত রয়েছে। ইশতেহারে থাকা অন্যান্য অঙ্গীকারের অনেকগুলো এখনো খুব সামান্য অগ্রগতি দেখিয়েছে বা কার্যত অনিষ্পন্ন রয়েছে।
Your Reviews
সাবস্ক্রাইব

শব্দকোষ

Last Updated: 14th December 2025

Loading glossary...