বছর
2026
রিফর্ম ডোমেইন
উপ-ডোমেইন
নারীর ক্ষমতায়ন
সংস্কার প্রস্তাবের উৎস
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬
বাস্তবায়নের অগ্রগতির ধাপ
প্রস্তাবিত সংস্কার
Last Update: 03-Aug-26
এই প্রতিশ্রুতিটি বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারে বিএনপি বলেছে, “স্বনির্ভরতা বাড়াতে ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পে যোগ্যতার ভিত্তিতে নারী উদ্যোক্তাদের বিনাসূদে সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা ও কর-ছাড় দেয়া হবে। তাদেরকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং ডেভেলপমেন্ট ও মার্কেটিং সাপোর্ট প্রদান করা হবে।”
প্রাথমিক বাস্তবায়ন শুরু
Last Update: 03-Aug-26
২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে নারী উদ্যোক্তাদের সহজে ঋণ পাওয়ার সুযোগ বাড়ানো, ঋণ কর্মসূচি সংস্কার এবং জামানত ছাড়াই ঋণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ২০০টি উপজেলায় দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা তৈরির কর্মসূচি, ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল এবং নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, অর্থায়ন ও বাজারের সঙ্গে যুক্ত করতে একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডার তৈরির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য করমুক্ত বার্ষিক বিক্রয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাবও করা হয়েছে।
আইনি ও নীতিগত কাঠামো প্রণয়ন
Last Update: 03-Aug-26
সংসদে অনুমোদনের পর ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট ও বরাদ্দ আইনের মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, ব্যবসা উন্নয়ন, ঋণ সুবিধা ও বাজারসংযোগে সরকারি অর্থ ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের ৬ জুলাই প্রণীত অর্থ আইন, ২০২৬ অনুমোদিত কর-সংক্রান্ত পদক্ষেপগুলো কার্যকর করেছে। আইনে নারী উদ্যোক্তা ও প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের ব্যবসা থেকে বছরে সর্বোচ্চ ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের ওপর কর অব্যাহতি রাখা হয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে এই সীমা ৫০ লাখ টাকা। পাশাপাশি প্রান্তিক নারী উদ্যোক্তা এবং কুটির ও ক্ষুদ্র শিল্পে ব্যবহৃত পরিবেশবান্ধব কম্পোজিট কাগজের আমদানি শুল্ক কমানো হয়েছে। ৫০০ কোটি টাকার একটি স্টার্টআপ তহবিলও রাখা হয়েছে, যেখান থেকে নারী উদ্যোক্তারা সহায়তা পেতে পারেন। তবে স্টার্টআপ তহবিলটি শুধু নারী উদ্যোক্তা বা ক্ষুদ্র, কুটির ও ছোট শিল্পের জন্য নির্দিষ্ট নয়; এটি সকল উদ্যোক্তাদের জন্য প্রযোজ্য।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএমএসএমই পুনঃঅর্থায়নসংক্রান্ত সার্কুলার এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের ক্রেডিট হোলসেলিং ব্যবস্থা অংশগ্রহণকারী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঋণ বিতরণের একটি প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করেছে। এসব ব্যবস্থার আওতায় যোগ্য নারী উদ্যোক্তাদের জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিক ও জামানতবিহীন ঋণের সুযোগ রয়েছে। তবে সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ার কোনো সার্কুলার, নির্দেশিকা বা অনুমোদিত কর্মসূচির তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক কার্যকরকরণ
Last Update: 03-Aug-26
২০২৬ সালের ১৪ জুলাই সরকার জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম চালু করে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তরুণ উদ্যোক্তারা ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল থেকে ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অনুদান পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এটি সামগ্রিকভাবে সরকারের স্টার্টআপ উদ্যোগ বাস্তবায়নকে নির্দেশ করে। তবে এই সুবিধা শুধুমাত্র নারী উদ্যোক্তাদের জন্য পৃথকভাবে তৈরি করা হয়নি। নারীদের জন্য আলাদা বরাদ্দ বা নির্দিষ্ট উপকারভোগী লক্ষ্যও ঘোষণা করা হয়নি।এছাড়া এটি ক্ষুদ্র, কুটির ও ছোট শিল্পে নারী উদ্যোক্তাদের সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি- সেটিও পূরণ করে না।
বর্তমানে ঋণ, প্রশিক্ষণ এবং মার্কেটিং সহায়তামূলক কার্যক্রম চালু রয়েছে। নারী উদ্যোক্তারা চুক্তিবদ্ধ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে সিএমএসএমই (CMSME) পুনরর্থায়ন এবং এসএমই (SME) ফাউন্ডেশন-সমর্থিত ঋণ গ্রহণ করতে পারছেন, তবে এসব সুবিধার ক্ষেত্রে সুদ প্রযোজ্য । এছাড়া, ২০০টি উপজেলায় নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও নতুন নারী উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে ‘নারীদের জন্য আয়বর্ধক প্রশিক্ষণ’ (IGA) প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
শি ট্রেডস, বাংলাদেশ হাব এবং এসএমইএফ-এর নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সরবরাহকারী প্ল্যাটফর্মের মতো আগে থেকে চালু থাকা ব্যবস্থার মাধ্যমে মার্কেটিং সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। এসব প্ল্যাটফর্ম বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তাই এগুলোকে নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতির নতুন বাস্তবায়ন হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। বর্তমানে প্রশিক্ষণ ও প্ল্যাটফর্মভিত্তিক কার্যক্রম চলমান থাকায় সহায়তার ধারাবাহিকতা দেখা গেলেও, বিএনপি সরকার নতুন কোনো মার্কেটিং কর্মসূচি চালু করেছে—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একইভাবে, বিক্রয়, ক্রেতার সঙ্গে সংযোগ কিংবা রপ্তানি চুক্তির সম্মিলিত ফলাফলসংক্রান্ত তথ্যও পাওয়া যায়নি। প্রতিশ্রুতির মূল বিষয়—সুদমুক্ত ঋণ প্রদান—এখনো ‘আইনি ও নীতিগত কাঠামো প্রণয়ন’ কিংবা ‘প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক কার্যকরকরণ’ পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
মতামত
-
কর-সুবিধা, জামানতবিহীন ঋণ, প্রশিক্ষণ এবং বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরিতে সরকার ইতিবাচক অগ্রগতি করেছে। তবে বিদ্যমান ঋণ কর্মসূচিগুলো সুদভিত্তিক হওয়ায় ইশতেহারে দেওয়া মূল আর্থিক প্রতিশ্রুতি—সুদমুক্ত ঋণ প্রদান—এখনো পূরণ হয়নি। এ ছাড়া, এসব কর্মসূচির আওতায় কতজন নারী অর্থায়ন পেয়েছেন, প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন, টেকসই ব্যবসা গড়ে তুলেছেন কিংবা বিক্রি বাড়াতে সক্ষম হয়েছেন— এসব বিষয়ে সরকার এখনো সমন্বিত কোনো সূচক বা ফলাফল প্রকাশ করেনি।
তথ্যাবলী